১. জমি নির্বাচন ও তৈরি
জমি নির্বাচন: ভালো ফলনের জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় এবং জল নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা আছে এমন জমি বেছে নিতে হবে। পেঁয়াজ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না।
জমি তৈরি: মাটি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। জমির শেষ চাষের সময় প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে হবে।
২. বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ
বীজ বপনের সময়: সুখ সাগর মূলত রবি মৌসুমের ফসল। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি (আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ মাস) বীজতলায় বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।
বীজতলা তৈরি: উঁচু ও শুকনো জায়গায় বীজতলা তৈরি করতে হবে এবং সেখানে বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হবে।
চারা রোপণ: বীজ বপনের ৩৫ থেকে ৪৫ দিন পর যখন চারাগুলো ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি লম্বা হবে, তখন প্রধান জমিতে রোপণ করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার (৬ ইঞ্চি) এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১০ সেন্টিমিটার (৪ ইঞ্চি) রাখা ভালো।
৩. সার ব্যবস্থাপনা
ভালো ফলনের জন্য সুষম সার ব্যবহার জরুরি। প্রতি হেক্টর জমিতে সারের মাত্রা নিম্নরূপ (মাটির উর্বরতার ওপর ভিত্তি করে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে):
গোবর/জৈব সার: ৫-১০ টন
ইউরিয়া: ২২০-২৫০ কেজি
টিএসপি (TSP): ১৫০-১৭০ কেজি
এমওপি (MOP): ১৫০-১৭০ কেজি
জিপসাম: ১০০-১২০ কেজি
দস্তা (জিংক সালফেট): ১০ কেজি
প্রয়োগ পদ্ধতি: শেষ চাষের সময় সব গোবর, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম এবং দস্তা মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া সার চারা রোপণের পর দুই কিস্তিতে (প্রথম কিস্তি রোপণের ১৫-২০ দিন পর এবং দ্বিতীয় কিস্তি ৩৫-৪০ দিন পর) প্রয়োগ করতে হবে।
৪. জলসেচ ও পরিচর্যা
জলসেচ: চারা রোপণের পরপরই হালকা জলসেচ দিতে হবে। মাটির আর্দ্রতা অনুযায়ী ৮ থেকে ১০ দিন পর পর জলসেচ দেওয়া প্রয়োজন।
আগাছা দমন: নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। চারা ছোট অবস্থায় নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিলে ফলন ভালো হয়।
মালচিং: শুকনো খড় বা কচুরিপানা দিয়ে মালচিং করলে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং আগাছা কম হয়।
৫. রোগ ও কীট দমন
থ্রিপস (Thrips): এটি পেঁয়াজের একটি প্রধান ক্ষতিকারক কীট। এদের দমনে ইমিডাক্লোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক (যেমন: কনফিডর) ব্যবহার করা যেতে পারে।
পার্পল ব্লচ (Purple Blotch): এই ছত্রাকজনিত রোগে পাতা ও কান্ডে বেগুনি রঙের দাগ দেখা যায়। এটি দমনে ম্যানকোজেব বা কার্বেনডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন: ডাইথেন এম-৪৫, নোইন) স্প্রে করতে হবে।
৬. ফসল সংগ্রহ
রোপণের ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ সংগ্রহের উপযোগী হয়।
যখন পেঁয়াজের পাতা ও কান্ড হলুদ হয়ে শুকিয়ে যেতে শুরু করবে এবং মাটির উপরের অংশ নুয়ে পড়বে, তখন বুঝতে হবে ফসল তোলার সময় হয়েছে।
মাটি কিছুটা শুকিয়ে গেলে সাবধানে পেঁয়াজ তুলে নিতে হবে। তোলার পর কয়েকদিন রোদে শুকিয়ে পাতা ও শিকড় কেটে সংরক্ষণ করতে হবে।
এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে সুখ সাগর পেঁয়াজ থেকে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
অর্ডার কনফার্ম করার পূর্বে ভালো করে দেখে নিন, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার ঠিক আছে কিনা !
আমরা আশা করি আপনি পার্সেলটি রিসিভ করবেন।
বীজ সম্পর্কে যে কেনো তথ্য জানতে